মার্কিন-ইজরায়েলি (US Israel) যৌথ হমলায় মৃত্যু (demise) হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের (khamenei)। জায়নবাদী রাষ্ট্রের এহেন আগ্রাসন নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত দুনিয়া। কেউ মার্কিন-ইজরায়েলের পক্ষ নিয়েছে। কেউ এই অভিযানের বিরদ্ধে সরব। এই অবস্থায় ভারতের (India) দিকে চেয়েছিল গোটা বিশ্ব। কারণ কয়েক হাজার বছর ধরে এই ভূখণ্ডের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক রয়েছে। এমনকী তেল সহ নানা প্রশ্নে এই শিয়া দেশের সঙ্গে এখনও সম্পর্ক রাখতে হয়েছে ভারতকে। তবে এই আগ্রাসনের সমালোচনা না করায় বিরোধীদের সমালোচনা সহ্য করতে হচ্ছে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে। প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী এই নিয়ে কেন্দ্রকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তাঁর সাফ কথা, কেন্দ্র যে নিরপেক্ষতার কথা বলছে, তা আসলে আত্মসমর্পণ। সম্প্রতি একটি নিবন্ধে সোনিয়া লেখেন, ‘ইরানের বিপর্যয়কে কৌশলে সমর্থন করছে ভারত।’ এই নিয়ে অবিলম্বে তিনি সংসদে আলোচনার দাবি করেছেন।
এত কিছুর পরেও ভারত কোনওভাবেই ইরানের পাশে দাঁড়ায়নি। বরং পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির কথা বলেই দায় এরিয়েছে। খামেনেইয়ের হত্যার পরেই প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। ভারতের সব সহানুভূতি গিয়ে পড়েছে ইরানের হাতে আক্রান্ত দেশগুলির উপর। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরিন এবং জর্ডানের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তেহরানের এই হামলার নিন্দা করেছেন তিনি। পাশাপাশি এই দেশগুলিতে কর্মরত প্রায় এক কোটি মানুষের নিরাপত্তার উপর জোর দেন।
তাহলে কি খামেনেইয়ের মৃত্যুকে ভারত লঘু করে দেখছে? (Is India downplaying Khamenei's death?)
আসলে খামেনেইয়ের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের দু’টি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায় ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল। আর দ্বিতীয় অধ্যায় পরের দুই দশক। বাবরি মসজিদ ধ্বংস নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ১৯৯৪ সালে নিন্দা প্রস্তাব পেশ করেছে পাকিস্তান। এই প্রস্তাব পাশ হয়ে গেলে ভারতের বিরুদ্ধে নেবে আসবে শাস্তির খাঁড়া। মরিয়া হয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাও ফোন করলেন ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আকবর হাশেমি রাফসাঞ্জানিকে। বিদেশমন্ত্রী দীনেশ সিং দৌড়লেন তেহরানে। রাফসাঞ্জানি আশ্বাস দিলেন, ‘ইরান ভারতের কোনও ক্ষতি হতে দেবে না।’ মুসলিম দেশগুলির সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনে (ওআইসি) পাকিস্তান যখন প্রস্তাবটি পেশ করতে চাইল, ইরান তখনও তা ব্লক করে দেয়।
পরিস্থিতি বদলায় পরের দশকে। ভারত-মার্কিন অসামরিক নিউক্লিয়ার চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি এজেন্সিতে ইরানের বিরুদ্ধে তিনবার ভোট দিয়েছে দিল্লি। মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর খামনেই প্রশাসনের সঙ্গে কেন্দ্রের বিবাদ তুঙ্গে উঠেছে। ২৯১৭ সালে খামেনেই মুসলিম বিশ্বকে ‘কাশ্মীরের বঞ্চিত মুসলিমদের’ সমর্থন করতে বলেন। ২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ ক্ষমতার প্রতীক ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করে মোদি সরকার। তখন খামেনেই ‘কাশ্মীর নিয়ে সুবিচারের’ নীতি গ্রহণ করতে বলেন ভারতকে। এর প্রতিবাদ করে বিদেশমন্ত্রক। ২০২০ সালে ভারতে জাতীয় নগারিক পঞ্জী (সিএএ) নিয়ে বিতর্ক জোরদার হয়। তখন ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার সিএএকে ‘মুলিমদের স্বার্থের বিরুদ্ধে’ বলে মন্তব্য করেন। ২০২০ সালে দিল্লিতে সংঘর্ষের সময় খামেনেই মন্তব্য করেন, ‘ভারতের উচিত কট্টর হিন্দুদের নিয়ন্ত্রণ করা’। স্বাভাবিতভাবেই এই সমব মন্তব্য ভারত মোটেই ভালোভাবে নেয়নি। আর খামেনেইয়ের মৃত্যু (khamenei demise) তাই স্বস্তি দিয়েছে দিল্লিকে।

0 মন্তব্যসমূহ