Dilip Kumar: স্বাধীনতার আগে তৈরি হওয়া শেষ হিন্দি ছবিতে দিলীপ কুমার| ছিলেন মহম্মদ রফিও

india-partition-made-opportunity-to-make-dilip-kumar-superstar-with-jugnu

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট দেশভাগের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গিয়েছিল বম্বে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির চালচিত্র। বলিউড নামকরণ তখনও হয়নি। লাহোর থেকে কলকাতা। শাসন করছেন বম্বে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তারকারা। বাংলা, বিহার, ওড়িশা,  কেরল, পাঞ্জাব, লাহোর, করাচি। সবের মিলন ক্ষেত্র তখন বম্বে। দেশভাগ (partition) এই পরিচিত চিন্তায় লক্ষ্ণণ রেখা টেনে দিল। লাহোরকে ঘিরে পাকিস্তানে গড়ে উঠল ললিউড, পাকিস্তানি সিনেমার উৎপাদন ক্ষেত্র। আর মুম্বই, তৎকালীন বম্বে রয়ে গেল হিন্দি সিনেমার গর্ভগৃহ হয়ে। নূরজাহান (noor jehan) বম্বে ছেড়ে করাচি চলে যান। আর সেই বছরেই মুক্তি পায় দিলীপ কুমার (dilip kumar)-নূরজাহান অভিনীত জুগনু (Jugnu)। নূরজাহান ভারত ছেড়ে দেন। আর সিনেমার সব কৃতত্বি একা চেটেপুটে খান দিলীপ কুমার। হয়ে ওঠেন সুপারস্টার (superstar)। মনে রাখতে হবে জুগনু সিনেমার শ্যুটিং শেষ হয়েছিল দেশভাগের আগে। আর স্বাধীনতার পরে তা মুক্তি পায়। বিভিন্ন দিক দিয়ে এই সিনেমা গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৭ সালের সবচেয়ে জনপ্রিয় সিনেমা ছিল জুগনু। আর এটিই ছিল দিলীপ কুমারের প্রথম হিট সিনেমা। দিলীপ কুমারের বাড়ি পাকিস্তানে। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তাঁকে সম্মান জানিয়ে এসেছে পকিস্তান। শাসন ক্ষমতায় সেনা শাসক বা গণতান্ত্রিক সরকার। পাকিস্তানের দিলীপ কুমারকে ভালবাসা ও শ্রদ্ধা কমেনি এতটুকু। আশ্চর্যের যে এই দিলীপ কুমারই দেশভাগের পর ভারতে থেকে গেলেন।

কথা হচ্ছে জুগনু (jugnu) সিনেমা নিয়ে। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই এই সিনেমাটিকে নিয়ে আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল। কলেজ পড়ুয়া দুই কিশোর-কিশোরীর প্রেমকে এই সিনেমায় একটু অন্যভাবে দেখানো হয়। এই সিনেমাতে একটি ক্ষদ্র চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মহম্মদ রফিও। বিষয়বস্তুর দিক দিয়ে সময়ের নিরিখে নিঃসন্দেহে জুগনু অনেক সাহসী সিনেমা। নাম চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন নূরজাহান। কলেজের হোস্টেলে থাকতেন জুগনু। কোটিপতির ছেলে সুরজ (দিলীপ কুমার) পড়তেন ছেলেদের কলেজে। নানা অনুষ্ঠানে দুই কলেজের পড়ুয়া ও শিক্ষকদের মতামত বিনিময় হতো। সেই সুযোগে মেলামেশা। সিনেমাতে একটি দৃশ্যে দেখা যায় ঘরের মধ্যে খাটের পাশে লুকিয়ে রয়েছেন জুগনু এবং সুরজ। সেই দৃশ্য ঘিরে বিতর্ক দেখা দেয়। অনেকেই বলেন, স্বাধীনতার বছরে প্রশাসনে নানা অরাজকতা দেখা দিয়েছিল।  তার ফোঁকল গলে এই সিনেমা ছাড়পত্র পেয়ে যায়। 

সিনেমায় দুই পড়ুয়ার প্রেমের পাশাপাশি কলেজের প্রিন্সিপালদেরও প্রণয়াশক্ত হিসেবে দেখানো হয়। যা মেনে নিতে পারেনি তৎকালীন সমাজ। সিনেমা মুক্তির পরে সংবাদপত্রে এক পড়ুয়ার চিঠি প্রকাশিত হয়। পড়ুয়া অভিযোগ করেছিলেন, সিনেমায় কলেজ প্রেম দেখানোয় তাঁকে হস্টেল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছেন তাঁর বাবা। এই সিনেমার জন্যই চির বিরহী বা ট্রাজেডি কিংয়ের মত তকম জুড়ে যায় দিলীপ কুমারের সঙ্গে। আর অমর হয়ে যায় তাঁর সংলাপ… জালিম দুনিয়া…


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ